সরকারি, আধা সরকারি সংস্থাগুলোর পরিবেশ দূষণের এই নির্লজ্জতা কেন?

0
225

১। বাংলাদেশ ব্যাংককে কে অনুমতি দিয়েছে উন্মুক্ত জলশায় নোংরা করার? ছেঁড়া টাকা ফেলার স্থান কি শহরের বাইরের রাস্তার পাশ কিংবা বিল? বগুড়ার শাহজাহানপুরের বিলটি সহ অতীতে যত উন্মুক্ত স্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক এভাবে ময়লা ডাম্পিং করেছে তার তদন্ত হোক এবং গভর্ণর সহ সংশ্লিষ্টদের সতর্কতা ও শাস্তির আওতায় আনা হোক। (ছবি-মানবজমিন)।

অতীতে অকেজো টাকা পুড়িয়েও নষ্ট করে বাংলাদেশ ব্যাংক। টাকা পুড়িয়ে নষ্ট করাটাও পরিবেশ বিরোধী, বায়ু দুষণকারী কাজ। বরং পুরানো নোট কাগজ রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় যাবার কথা।

বাংলাদেশে নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য যে সার্টিফিকেট গুলো লাগে তার একটি হচ্ছে, পরিবেশ সুরক্ষা সার্টিফিকেট (এক্স্যাক্ট নাম জানা নেই)। বড় কোম্পানি গুলো এই সার্টিফিকেশনের নিয়ম গুলো ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করে ক্রমাগত লঙ্ঘন করে পরে নদী ও জলাশয় দূষণ করে, আর ছোট কোম্পানি গুলো এই সার্টিফিকেট নিতে দিনের পর দিন বিভিন্ন মন্ত্রকে ঘুরে পরে বহু কর্মঘন্টা নষ্ট করে। অথচ রাষ্ট্রের অভিভাবকরাই নির্লজ্জ্ব পরিবেশ দূষণ করে চলছে প্রতিদিন। এই নির্লজ্জতার অন্ত নেই।

২। নদী মোহনার খুব কাছে অবস্থিত, সাগরতীর ও সুন্দরবনের মোটামুটি কাছাকাছি স্থানে অবস্থিত ১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। এখনো উৎপাদনে আসেনি কেন্দ্রটি, এরই মধ্যে কেন্দ্র সংলগ্ন রাবনাবাদ নদীর তীরবর্তী এলাকা দূষণের শিকার। পড়ে আছে পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, টিনের ক্যান, খাবারের উচ্ছিষ্ট, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এখানে কাজ করছে বহু ডোমেইনের একদল কথিত এক্সপার্ট, অনাগত দিনে কেমন পরিবেশ এদের থেকে আশা করা যায়? (ছবি: কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম)

৩। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন সহ সারা দেশের সব নগর ও পৌর করপোরেশন উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ময়লা সংগ্রহ করে এবং উন্মুক্ত পদ্ধতিতেই শহরের কিছুটা বাইরে যাবতীয় ময়লা ডাম্পিং করে। (একটি ছবিতে লাকসাম পৌর কর্পোরেশনের ময়লা ফেলার স্থান, এই দৃশ্য দেশের সবখানে)

৪। ১৯০৭ সালে পলিথিন আবিষ্কৃত হয়েছে। বাংলাদেশে আশির দশকের মাঝামাঝি পলিথিন আসে। তিন যুগেরও বেশি সময়কাল থেকে দেশের ৮৭ হাজার ৩১৯টি গ্রামে যত পলিথিন ব্যাগ ও বিভিন্ন প্যাকেট পলি গেছে তার কিছুই রিসাইলে আসেনি। এই পলিথিন কই গেছে? কৃষি জমি, বিল ঝিল ও নদীগর্ভ এবং সাগরে। এর ফলে কৃষি জমির উর্বতরা গেছে, নদী ও জলজ প্রাণীর আবাস নষ্ট হয়েছে, হয়েছে সাগর বিষাক্ত। মাইক্রো প্লাস্টিক হয়ে এই পলি হাস মুরগি গরু ছাগল আর মানুষের খাদ্য চক্রে ফিরে আসছে।

সভ্য দুনিয়ায় ব্যবহৃত পলির প্রায় ৭৫% রিসাইকেলে যায় যাকে তারা ৯৫% থেকে ১০০ তে উন্নীত করতে চায়। বাংলাদেশে শহুরে পলির এক চতুর্থাংশ রিসাইকেলে গেলেও গ্রামীণ পলির শতভাগ উন্মুক্ত পরিবেশে ডাম্পিং হয়। এমন অসভ্যতা বিশ্বে বিরল।

৫। বিশ্বের দিকে দিকে পরিবেশ দরদীরা আর্তনাদ করছেন। কিন্তু এই আর্তনাদ আমাদের নির্বিকার প্রশাসন, নেতাদের কুম্ভকর্ণে পৌঁছে না। আমাদের জনতা নিজের বৈষয়িক স্বার্থ্য ছাড়া বাকি সব কিছুতে ভাবলেশহীন। এখানে বিদেশীরা রাস্তা ও নদী পরিষ্কারে আসলেও তার নিজের লজ্জ্ব হয়না। বরং সে সেলফি তুলে।

বিশ্বের সব নদী ও সাগর আন্তঃ সংযুক্ত, এ যেন এক বিশ্ব, এক জল। ফলে গঙ্গা ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার অববাহিকার বিপুল জলরাশি সর্বভারতীয় অবর্জনা বাংলাদেশের কৃষিভূমি ও নদীগর্ভ হয়ে সাগরে পড়ছে। এই অঞ্চলই বিশ্বের অন্যতম নোংরা ও উন্মুক্ত আবর্জনা ডাম্পিং এর কেন্দ্র। ভারতীয় নদী অববাহিকায় নদীদুষণ বন্ধ না হলে, বাংলাদেশের জল স্থল দুষণ মুক্ত রাখা খুব কষ্টকর কাজ। তাই নিজের পরিবেশ সচেতনতার পাশাপাশি বাংলাদেশের উচিৎ উপমহাদেশীয় আঞ্চলিক পরিসরে কিংবা আন্তর্জাতিক পরিবেশ সুরাক্ষার পরিসরে পানি নদী সাগর দুষণ মুক্ত রাখার আওয়াজ তোলা। কিসের কি? বাংলাদেশ নিজেই দূষণ মাষ্টার!

প্রাণ ও প্রকৃতিকে এভাবে ধ্বংস করে, পাখ পাখলি, সাপ কচ্ছপ ব্যাঙ সহ জলজ বাস্তুসংস্থান ও কৃষি ভূমির হিউমাস মেরে ফেলে পরে আমাদের নাগরিকেরা কিভাবে এই ভূখন্ডে সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে থাকবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here